রোকেয় কিবোর্ড লেআউট ও প্রোগ্রাম রিলেটেড আরো কিছু পরিকল্পনা

বিশ্বকাপের ভীড়ে এখন অন্যান্য পোস্ট কারো নজরে আসার কথা না…. যাই হোক, সেটা সমস্যা না। রোকেয়া কিবোর্ড লেআউটপ্রোগ্রাম নিয়ে বর্তমানে কি কাজ করছি সেটারই একটা ধারাবাহিক আপডেটমূলক পোস্ট এটা। প্রতি সপ্তাহে গুগল সার্চিংয়ে কোন না কোন ইমপ্রুভমেন্ট করে, কোন ফিচার যোগ করবেই এবং সেটা নিয়ে লিখেও….. ওদের স্টাইলে আমিও তাই ভাবছি একটা রেগুলার আপডেট মূলক পোস্ট লিখে ফেল...

কিবোর্ডের কাজটা খুব সহজ, আবার খুব কঠিন। সহজ এই সেন্সে যে, অলরেডি অনেকগুলি কিবোর্ড আছেই সুতরাং ওদের মত একটা বানালেই হয়। কিবোর্ডের ইনপুট নিতে হবে, সেটা কোন অক্ষর চেক করে সেইমত প্রোগ্রামকে নোটিফাই করলেই হবে……

কঠিন পার্টটা হল, এই জিনিসটাকে পারফেক্ট করা+বিজ্ঞানসম্মত করা+মানুষের কাছে সহজে পৌছাতে পারে এমন করে তৈরী করা….. আমি শুরু করেছি কিবোর্ড দিয়ে তবে আমার ইচ্ছা একটা কমপ্লিট প্যাকেজ তৈরী করে এরপরেই থামবো। কমপ্লিট প্যাকেজ মানে:

১) খুব সহজ/ সেরা কোন একটা কিবোর্ড লেআউট
২) ভয়েস টু টেক্সট ফ্যাসিলিটি
৩) টেক্সট টু ভয়েস ফ্যাসিলিটি
৪) বানান পরীক্ষক
৫) বাংলা ডিকশনারী
৬) ছাপার অক্ষর / হাতের লিখা সনাক্তকারী এরমাঝে

আলাদা আলাদা করে বেশ কয়েকটি’র কাজ হয়েছে, এরমাঝে ওপেন সোর্স জিনিসগুলিকে আমি এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে চাই…… আমার লক্ষ্য এটাই…

টপিকে ফেরত আসি, আপাতত যেই কাজগুলি করেছি কিবোর্ড নিয়ে:

১) ডাটা জেনারেশন ফেজ শুরু হয়েছে, আপাতত চেষ্টা করছি অঙ্কুর.org এর ফাইলটাকে একটা ফরম্যাটে নিয়ে যেতে (একটু ধাক্কা খেতে পারেন কারণ পোর্টেবল ফাইল ফরম্যাট মানে তো পিডিএফ, আমি তাহলে কি করতে চাইছি ?? উত্তর: তেমন কিছু না, এটাকে এক্স-এম-এল এ ট্রান্সফার করে দিব যাতে পিসি-মোবাইল-ওয়েব/ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশন-স্মার্টফোন সবাই একইভাবে অ্যাক্সেস করতে পারে….doc ফাইল ডাটাবেজে নেয়ার কোড রেডি করে রেখেছি, আরো কিছু ফরম্যাট নিয়ে কাজ করতে হবে (যেমন: এক্সেল, এইচটিএমএল)। কাজগুলি সহজ বলে ফেলে রাখলে হবে না,করতে হবে….

২) কিবোর্ড নিয়ে অনেক কাজ হয়েছে, সেগুলির সামারি করে এবং বেটার একটা অ্যাপ্রোচ প্রপোজ করার চেষ্টা করছি, এই মাসের মাঝেই ফাইনাল বুঝা যাবে এই অ্যানালাইসিস নিয়ে কতদূর যাওয়া যাবে…. এখন আটকে আছি ant colony optimization প্রবলেম এর ভ্যারিয়েন্স নিয়ে

৩) কিবোর্ডের সফটওয়ার তৈরীর জন্যে কোড দেখছি বেশ কিছু তবে রান করা হয়নি তেমন একটা। মনির ভাইয়ের কোডটা রান করতে পারলাম না, কোন একটা সমস্যা হয়েছে যেটা ধরতে পারছি না….

৪) আমি একা এতগুলি সফটওয়ারের কাজ করতে পারবো না……. অফিসের ফাঁকে এত সময় আমি কখনোই পাব না + আমার সববিষয়ে জ্ঞানার্জন করাও সম্ভব না…… একটা সফটওয়ার বানাতে কি পরিমাণ ধৈর্য্য লাগে সেটা যারা কোড লিখে কোন সফটওয়ার বানিয়েছে তারাই শুধু জানে……. আমি তাই প্ল্যান করছি আমেরিকা-ইউরোপের মত ফান্ডিং করে কোন স্টুডেন্ট প্রজেক্ট হিসেবে কাজটাকে এগিয়ে নিব……. মানে আমরা একটা ফান্ড গঠন করলাম এবং সেই ফান্ডের টাকাটা কোন ভার্সিটির কোন একটা টিচারকে দিলাম…. তিনি সেই টাকার ৩০% রাখবেন ও তার স্টুডেন্টদের ক্লাস প্রজেক্ট হিসেবে সেই কাজটা দিয়ে কাজটা করিয়ে নিবেন এবং সবশেষে বাকি ৭০% টাকা স্টুডেন্টরা পাবে ( আমার ধারণা ভুল না হলে নর্থ আমেরিকান ভার্সিটিগুলিতে স্কলারশীপের ধারণা এটাই, তাইনা ??)

৫) ভাষা নিয়ে এ ধরনের কাজকে শুধু ওপেন সোর্স রাখলেই হবে না, পাশাপাশি ক্লোজড সোর্সও রাখতে হবে এটা আমি জানতাম না….. আজকে জানলাম….. সেইমত একটা লাইসেন্স ডকুমেন্ট লিখতে হবে….
এর কারণ হল ওপেন সোর্সের জিনিস কোডে আপনি যদি পরিবর্তন করে তাহলে আপনি অবশ্যই সেই পরিবর্তিত জিনিসটি ওপেন রাখতে বাধ্য…. এখন যদি এমন হয় যে, সেই পরিবর্তিত অংশটি ওপেন রাখলে আপনার সিকিউরিটি বা এজাতীয় খুব বড় কোন সমস্যা সেক্ষেত্রে আপনি কি ওপেন সোর্স জিনিস নিবেন ?? অবশ্যই না…. একারণে এসব ঘটনা ট্যাকল দিতে ক্লোজড সোর্সও থাকবে ওপেন সোর্সও থাকবে…..

তবে ওপেন+ক্লোজড যেটাই হোক না কেন সারাজীবন সবকিছুই ফ্রি থাকবে এবং যেকারো সেটাতে এক্সেস থাকবে…….. ভাষা নিয়ে কোন ব্যবসা চলবে না….

**********
এইতো আজ এ পর্যন্তই….. পোস্টে মাথা ধরায় দিয়েছি বোধহয়, দুঃখিত সেজন্যে…… ভাল থাকবেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *